আরশোলা দূর করার উপায়-শুধু পালাবে না মরবেও

বাড়িতে তেলাপোকা (cockroach) উপদ্রব হলে অনেকে ব্যবহার করেন পেস্ট কন্ট্রোল। তবে শুরুতেই এতটা বিচলিত হয়ে পড়ার কিছু নেই। কিছু ঘরোয়া উপায়েই আরশোলা সমস্যার সমাধান হতে পারে ।

তেলাপোকা দূর করার উপায়-শুধু পালাবে না মরবেও

আরশোলা-shusthodeho.net

তেলাপোকার শ্রেণিবিন্যাস:

পর্ব = Arthodpoda

শ্রেণী = Insecta

বর্গ = Dictyoptera

গোত্র = Blattidae

গণ = Periplaneta

প্রজাতি = Periplaneta Americana

যেভাবে তাড়াবেন আরশোলা:

১. তেজপাতা : তেজপাতার গন্ধ আরশোলা (cockroach) সহ্য করতে পারে না। ফলে যেখানে তেজপাতা থাকে সেখানে আরশোলাও থাকে না। তাই যেখানে আরশোলার আনাগোনা বেশি সেখানে তেজপাতা ছিঁড়ে ফেলে রাখুন।

২.সাবান জল : গায়ে মাখার সাবান ও জল মিশিয়ে সাবান জল মিশ্রণ তৈরি করুন। ঘরের কোণে এই জল ¯েপ্র করে দিন।

৩.অ্যামোনিয়া এক বালতি জলে দুই কাপ অ্যামোনিয়া গুলে নিন। এই জল দিয়ে রান্নাঘর ও শৌচাগার ধুইয়ে নিন। আরশোলা পালাবে।

৪. সোডা ও চিনি : বেকিং সোডা ও চিনি মিশিয়ে যদি ঘরের কোনও কোণে মিশ্রণটি ছড়িয়ে দেন তাহলে তা কাজে দেয়। আরশোলা এই মিশ্রণটি খেলেই মারা যায়।

৫.লেচি : ময়দা ও বোরিক অ্যাসিড মেখে একটা মণ্ড তৈরি করে নিন। এর ছোট ছোট লেচি কেটে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রাখুন। এই লেচিতে মুখ দিলেই আরশোলা খতম।

৬.জল  স্প্রে : গোলমরিচ, পেঁয়াজ, রসুন এই তিন উপকরণ এক সঙ্গে পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এক লিটার জলে ভাল করে গুলে নিন। ঘরের আনাচকানাচে এই জল  স্প্রে করলেও নিশ্চিহ্ন হবে আরশোলার বংশ।

৭.টিনের কৌটো : একটি টিনের কৌটোয় কাটা শশা ভরে মুখ খুলে রেখে দিন। আরশোলা চলে যাবে। তবে খুব বেশি দিন রাখবেন না যেন, তাতে মাছির উপদ্রব শুরু হবে।

৮.গুঁড়ো সাবান: ওয়াশিং মেসিনের জন্য গুঁড়ো সাবান ব্যবহার করা হয়। এই গুঁড়ো সাবানে ব্লিচ থাকে যা আরশোলা তাড়াতে সাহায্য করে। গুঁড়ো সাবান জলে গুলে স্প্রে করুন।ও

৯.স্প্রে : লিস্টারিন, জল ও বাসন ধোয়ার তরল সাবান এই তিনটি উপকরণ জলে মিশিয়ে ঘরের চারিদিকে স্প্রে করে দিন।

ঘরোয়া উপায়ে আরশোলা তাড়ান নিমিশে

আরশোলা-shusthodeho.net

ঘরোয়া উপায়ে আরশোলা তাড়ান নিমিশে

তেলাপোকা রোগ জীবানু ছড়ায়। আরশোলা থেকে মুক্তি পাওয়াটা জরুরি। তা করতে গিয়েই আমরা বাজার চলতি নানা রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকি। যা কিন্তু আরশোলার থেকেও অনেক বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে আরশোলা তাড়ান। কীভাবে দেখে নিন-

বেকিং সোডা: বেকিং সোডার সঙ্গে সম পরিমাণ চিনি মিশিয়ে সেই সব জায়গায় ছড়িয়ে দিন যেখানে আরশোলারা ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।

বোরাক্স: তেলাপোকা মারা এবং তাড়ানোর জন্য বোরাক্সও খুব উপযোগী। বইয়ের তাক বা যেখানে আরশোলার আনাগোনা বেশি সেখানে বোরাক্স পাউডার ছড়িয়ে দিন।

পেট্রোলিয়াম জেল: একটি পাত্রের ভিতর এবং বাইরের দেওয়ালে পেট্রোলিয়াম জেল লাগিয়ে নিন।
পাত্রে কয়েক টুকরো কাটা ফল বা ফলের খোসা রেখে দিন। ফলের গন্ধে আকৃষ্ট হবে আরশোলার দল।
কিন্তু পেট্রোলিয়াম জেল-এ আটকে গিয়ে আর পালাতে পারবে না।

শশা: শশা কেটে তা অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে রেখে দিন। শশা অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত হয়ে যায়। যা আরশোলা খেয়ে মারা যাবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: আরশোলা সাধারণত নোংরা জায়গায় বাসা বাধে। তাই সব সময় বাড়ি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন।
নিকাশি নালা পরিষ্কার করবেন মাঝে-মধ্যেই। ডাস্টবিন ঢেকে রাখবেন।

তেজপাতা: রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য তেজপাতা আমরা সকলেই ব্যবহার করি। ঘরের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় তেজপাতা রেখে দিন।তেজপাতার গন্ধে আরশোলা আসবে না।

ব্লিচিং পাউডার: এক কাপ গরম জলে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে নিন।

হার্ব: ক্যাটনিপ নামে খুব পরিচিত এক ধরণের হার্ব দিয়েও আরশোলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যাটনিপ পাতা থেঁতো করে ব্যবহার করতে পারেন বা এই গরম জলে ক্যাটনিপ পাতা ফুটিয়ে তা আরশোলার উপরে স্প্রে করে দিতেও পারেন।

যেভাবে আরশোলা তাড়াতে যাবেন না

আরশোলা-shusthodeho.net

যেভাবে আরশোলা তাড়াতে যাবেন না :

তেলাপোকা দেখলেই অনেকের গা শিউরে ওঠে। কিন্তু আরশোলা একবার বাড়িতে জায়গা করে নিলে, তার বংশবৃদ্ধির চোটে হিমশিম খেতে হয়। সে কারণে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিয়ে অনেকেই আরশোলা তাড়ানোর চেষ্টা করেন।

তেলাপোকা জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার এক ব্যক্তি পোকা মারার ওষুধ ব্যবহার করেন। তিনি বোতলের পরে বোতল তেলাপোকা মারার ওষুধ স্প্রে করতে থাকেন। কিন্তু সেই ওষুধের শিকার হন নিজেই।

জানা গেছে, স্প্রের মাত্রা বেশি হওয়ায় তার রান্নাঘরে আগুন ধরে যায়; পরে বিস্ফোরণ ঘটে। রান্নাঘরসহ বাড়ির একটি দেওয়ালও ভেঙে পড়ে ওই বিস্ফোরণে।

শুধু বাড়ির ক্ষতি নয়। ওই ব্যক্তির হাত ও মাথাতেও চোট লেগেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে কারণে আরশোলা মারার সময় সাবধান থাকবেন!

তেলাপোকার শ্রেণিবিন্যাস:

১. আরশোলা বা তেলাপোকা Arthopoda পর্বের একটি আদর্শ উদাহরণ।

২. পৃথিবীতে প্রায় ২৬০০ প্রজাতির আরশোলা পাওয়া গেছে, বাংলাদেশে ৯ প্রজাতির পাওয়া যায়।

৩. সচরাচর যে তেলাপোকা দেখা যায়, তা হল = Periplaneta americana

৪. বই-এ মূলত তিন প্রকার তেলাপোকার মধ্যে পার্থক্য দেওয়া আছে। Periplaneta americana এর পাশাপাশি Blatta orientalis (ওরিয়েন্টাল) এবং Blatella germanica (জার্মান তেলাপোকা)

৬. তেলাপোকা নিশাচর প্রাণী।

৭. এরা সর্বভূক। উদ্ভিদ ও প্রাণিজ, উভয় ধরণের খাবারই গ্রহণ করে।

৮. তেলাপোকার সম্পূর্ণ দেহ কাইটিনযুক্ত কিউটিকল দিয়ে আবৃত।

তেলাপোকার শ্রেণিবিন্যাস

আরশোলা-shusthodeho.net

৯. তেলাপোকার দেহখণ্ডক গুলোকে বলা হয় স্ক্লেরাইট। (স্ক্লেরেনকাইমা-এর কথা মনে করা যেতে পারে, শক্ত দেহ খণ্ড)

১০. স্ক্লেরাইটের পৃষ্ঠদেশীয় অংশকে টার্গাম এবং বক্ষদেশীয় অংশকে বলা হয় স্টার্নাম। (এখানে পাঁজরের হাড় ও স্টার্নামের কথা মনে করা যেতে পারে, বুকের দিকে স্টার্নাম থাকে)

১১. কিউটিকলের প্রস্থচ্ছেদে তিনটি স্তর দেখা যায়। এগুলো যথাক্রমে এপি, এক্সো এবং এন্ডো কিউটিকল নামে পরিচিত।

১২. তেলাপোকার হাইপোডার্মিস থেকে কিউটিকলের স্তর সৃষ্টি হয়।

১৩. তেলাপোকার দেহকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়:

মস্তক
বক্ষ
উদর
১৪. তেলাপোকা মাথার দু’পাশে দু’টি কালো রঙের পুঞ্জাক্ষি অবস্থিত। প্রতিটি পুঞ্জাক্ষিতে অসংখ্য বহুকোণা প্রকোষ্ঠ দেখা যায়, এদের প্রত্যেকটিকে ওমাটিডিয়াম বলে।

১৫. পুঞ্জাক্ষির দু’পাশে দু’টি সাদা দাগ থাকে, এদের ফেনেস্ট্রা বলে। এরা আদি ওসেলাস বা সরল অক্ষি-এর প্রতিনিধিত্ব করে।

১৬. ওমাটিডিয়ার মাধ্যমে পুঞ্জাক্ষি দর্শনেন্দ্রিয় এবং ফেনেস্ট্রা আলোর তীব্রতা গ্রাহীর কাজ করে।

১৭. তেলাপোকা অ্যান্টেনা ব্যবহার করে স্পর্শ, ঘ্রাণ ও শব্দ তরঙ্গ অনুভব করে।

১৮. আরশোলার মুখ-উপাঙ্গ:

· Labrum বা ঊর্ধ্ব ওষ্ঠ (Lip থেকে Labrum)

· Mandible বা চোয়াল

· প্রথম Maxilla

· দ্বিতীয় Maxilla বা Labium বা অধঃওষ্ঠ (Lip থেকে Labium)

· Hypopharynx বা উপজিহ্বা

আরশোলা কি খায়

আরশোলা-shusthodeho.net

১৯. বক্ষ তিন খণ্ডে বিভক্ত। Pro+thorax = অগ্রবক্ষ, Meso+thorax = মধ্যবক্ষ, Meta+thorax = পশ্চাৎবক্ষ

২০. মধ্য ও পশ্চাৎবক্ষের পিঠে একজোড়া করে মোট দু’জোড়া ডানা রয়েছে

২১. প্রত্যেক খণ্ডের এক জোড়া করে মোট ৩ জোড়া পা রয়েছে।

২২. পা-এর পাঁচটি অংশ রয়েছে: কক্সা, ট্রোক্যান্টার, এরপর ফিমার (মানুষের যেমন থাকে), টিবিয়া (মানুষের টিবিয়া-ফিবুলা) এবং পাঁচটি ক্ষুদ্র অংশ বিশিষ্ট টার্সাস (মানুষের ক্ষেত্রে = টার্সাল)

২৩. উদর দশটি খণ্ডকে গঠিত:

· স্ত্রী আরশোলার অষ্টম ও নবম খণ্ড দু’টি সপ্তম খণ্ডের নিচে ঢাকা থাকে।

· দশম খণ্ডে পায়ু সারকি থাকে

· পুরুষ আরশোলার নবম খণ্ডের উভয় পাশে কুর্চ বা অ্যানাল স্টাইল থাকে, যা দিয়ে পুরুষ আরশোলা চেনা যায়।

· ৫ম ও ৬ষ্ঠ খণ্ডের দু’পাশে একটি করে গ্রন্থি মোট ২টি গ্রন্থি আছে। এ থেকে তীব্র গন্ধ নিঃসৃত হয়।

২৫. আরশোলায় এক জোড়া লালা গ্রন্থি রয়েছে।

২৬. পৌষ্টিক নালী তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

·         স্টোমোডিয়াম বা অগ্রান্ত্র (স্টোম্যাটা বা পত্ররন্ধ্রের কথা মনে করা যেতে পারে, স্টোমা = মুখ)

·         মেসেন্টেরন বা মধ্যান্ত্র

·         প্রোক্টোডিয়াম বা পশ্চাদান্ত্র

২৭. স্টোমোডিয়াম-এর অংশসমূহ:

·         মুখছিদ্র

·         মুখবিবর

·         গলবিল

·         অন্ননালী

·         ক্রপ (উদরীয় ৩য় বা ৪র্থ খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত)

·         গিজার্ড (৬ টি করে দাঁত, অনুলম্ব ভাঁজ, প্যাড ইত্যাদি থাকে)

২৮. মেসেন্টেরন এর অংশ সমূহ:

·         গিজার্ডের শেষ প্রান্ত ও মেসেন্টেরনের সংযোগস্থলে ৭-৮ টি বদ্ধ সরু হেপাটিক সিকা থাকে।

·         মেসেন্টেরনের শেষ প্রান্তে অসংখ্য হলুদ রঙের মালপিজিয়ান নালিকা দেখা যায়। (মার্সেলো মালপিজি নামে এক বিজ্ঞানীর নামে নাম)

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *