কলার পুষ্টিগুণ

কলার পুষ্টিগুণ:

শক্তি সহায়তাকারী ফল হল কলা যা সারা পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এটি অবিলম্বে শক্তি প্রদান করে এবং পেটের জন্য খুব ভাল। কলার এক একটি টুকরায় ৯০ ক্যালরি ধারণ করে বলে মনে করা হয়। কলা প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটি আমাদের শরীরের শক্তি বর্ধনকারী সুকরোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং ফাইবার এর অভাব পূরণ করে থাকে। কলা ডায়েট চার্টেও যোগ করা যায় কারন কলাতে কোন ফ্যাট বা চর্বি নেই বললেই চলে। কলা রক্তচাপ কমায় এবং ক্যান্সার ও হাঁপানির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কমপক্ষে ১০৭ টি দেশে কলা উৎপন্ন হয় এবং আর্থিক মূল্যের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য ফসলের মধ্যে চতুর্থ হল কলা। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সারাবিশ্বে আপেল ও কমলালেবুর চেয়ে মানুষ কলা বেশি খায়। কলা পটাসিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। কলা হাঁপানি, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং পাচক সমস্যার প্রতিরোধ করতে পারে।

কলার পুষ্টিগুণ

কলার পুষ্টিগুণ – shusthodeho.net



কলা এর উপকারিতা

কলাতে বিভিন্ন উপাদান রয়েছে যার মধ্যে একটি হল ট্রিপটোফ্যান প্রোটিন যা মানুষের শরীরে পরিণত করে সিরোটোনিন হরমোনের। আমাদের শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে আমদের মুড বা মেজাজ ভাল হয়ে যায়। আমরা রিল্যাক্স বোধ করি। কলার মধ্যে ভিটামিন বি৬ থাকে যা আমাদের শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখে। এতে করে তা আমদের মেজাজ ঠিক রাখতে সাহায্যকারী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও কলায় রয়েছে- ০.৩ গ্রাম চর্বি, শূন্য কলেস্টেরল, ১ মিলিগ্রাম লবণ, প্রায় ৩৬০ মিলি পটাসিয়াম, ২.৬ গ্রাম খাদ্যতালিকাগত ফাইবার, ১২ গ্রাম চিনি এবং ১.১ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে।

কলার পুষ্টিগুণ

কলার পুষ্টিগুণ – shusthodeho.net



কলাকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ। কেননা কলা অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধকেন কলাকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন এর কিছু কারন আজকে আলোচনা করা হল-

    • উচ্চ ফাইবারযুক্ত-

      কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার। এ কারণে প্রায়ই ডাক্তাররা ব্রেকফাস্টে কলাকে যুক্ত করতে বলেন।

 

  • হার্ট স্বাস্থ্য- উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার হার্ট এর জন্য ভাল। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কলা কার্ডিওভাসকুলার রোগ (সিভিডি) এবং করণীয় হৃদরোগ (সিএইচডি) উভয়ই ঝুঁকি কমায়।

 

    • পাচক সমস্যা- কলাতে মিষ্টি স্বাদ আছে। যার ফলে পাচনকে সমর্থন করে এবং বিপাক তৈরিতে সাহায্য করে।

 

  • পুষ্টি শক্তি- কলাতে ভিটামিন যেমন- পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, ফ্লেট, নিয়াসিন, রাইবোফ্লভিন, এবং বি ৬ রয়েছে।
  • উচ্চ পটাসিয়ামযুক্ত- কলার মধ্যে পটাসিয়াম খুব বেশি পরিমানে রয়েছে যা হৃদস্পন্দন রক্তচাপ, এবং মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

 

  • রক্তচাপ- এটি উচ্চ রক্তচাপ কমায়, কারন এতে রয়েছে লবণ সামগ্রী এবং উচ্চ পটাসিয়াম।
  • চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি – চুলের পরিচর্যায় কসমেটিকস এর পরিবর্তে কলা অন্যতম বিকল্প বাবস্থা হতে পারে। হেয়ার মাস্ক হিসেবে চুলে ব্যাবহার করতে পারেন কলা। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও ফলিক অ্যাসিড সহ আরও অনেক পুষ্টিগুন যা আপনার চুলে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি- ত্বকে কলা ব্যবহার করে খুব সহজেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা যায়। কেননা কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ যা মুখের বিশেষ করে কাল দাগ দুর করে।
কলার পুষ্টিগুণ

কলার পুষ্টিগুণ – shusthodeho.net

  • প্রোবায়টিক- প্রোবায়টিক এর একটি অন্যতম উৎস হলো কলা। তাই ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্তি পেতে কলা খেতে পারি। কেননা কলাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফ্রুক্টোওলিগোস্যাকারাইড (FOS) যা দেহে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
  • মাইগ্রেন দুর করতেকলায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেসিয়াম যা মাথাব্যাথার প্রকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে।
  • প্রশান্তি- ট্রিপটোফ্যান প্রোটিন যা মানুষের শরীরে পরিণত করে সিরোটোনিন হরমোনের। আমাদের শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে আমদের মুড বা মেজাজ ভাল হয়ে যায়। আমরা রিল্যাক্স বোধ করি।
কলার পুষ্টিগুণ

কলার পুষ্টিগুণ – shusthodeho.net

  • ওজন- মাঝারি আকৃতির একটি কলায় মাত্র ১০৫ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও রয়েছে ক্রোমিয়াম নামক খনিজ পদার্থ, যা বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে।

আমাদের মধ্যে যাদের কলা খাওয়ার অভ্যাস নেই, তাদের খুব দ্রুত কলা খাওয়ার অভ্যাস করা উচিৎ।

এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে ভিসিট করুন 

কি করলে আমারা আমাদের পোস্ট আরও ভাল করতে পারি এই বিষয়ে অবশ্যই মতামত প্রকাশ করবেন।

আরও কি টাইপের পোস্ট বা ক্যটাগরি আমরা যুক্ত করতে পারি এই বিষয়ে যদি মতামত থাকে তাও ব্যাক্ত করার অনুরোধ রইল।

ধন্যবাদ।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *