কাঁচা ছোলা খাওয়ার ৩০ টি উপকারিতা যা জানলে চোখ কপালে উঠে যাবে

কাঁচা ছোলা মুড়ি সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশে কাঁচা ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। কাঁচা, রান্না করে মুড়ির সঙ্গে বা ডাল হিসেবে। বাজারে ভেজেও বিক্রি হয়। সবচেয়ে বেশি পুষ্টি হলো কাঁচা ছোলাতে। রান্না ছোলাতে তেল দেওয়া থাকে বলে এতে ফ্যাটের পরিমাণ রয়েছে। অনেকে কাঁচা ছোলা দেহের বডি গঠনে খেয়ে থাকেন। কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার ৩০ টি উপকারিতা যা জানলে চোখ কপালে উঠে যাবে

                                                                                    কাঁচা ছোলা-shusthodeho.net

কাঁচা ছোলা খাওয়ার ৪০ টি উপকারিতা

১. কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক গঠন হয়।

২. কাঁচা ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

৩. কাঁচা ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে। এই খাদ্য আঁশ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

৪. কাঁচা ছোলা খেলে পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, আপনি পাবেন বেশী হাটার শক্তি।

৫. কাঁচা ছোলা খাদ্যনালীতে ক্ষতিকর জীবাণু দূর করে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কমায়।

৬. কাঁচা ছোলা চিবিয়ে খেলে এর রস দাঁতের মাড়িকে করে মজবুত।



৭. পানিতে ভেজানো ছোলার খোসা ফেলে কাঁচা আদা কুচি দিয়ে খেলে তা শরীরের জন্য জোগাবে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি।

৮. হঠাৎ যদি দেহের মধ্যে অস্থির অনুভব হয়, তাহলে কাঁচা ছোলা খেয়ে নিতে পারেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

৯. ছোলার শর্করা গ্লুকোজ হয়ে দ্রুত রক্তে যায় না। তাই ডায়াবেটিকস রোগীর জন্য কাঁচা ছোলা খুবই উপকারী খাবার।

১০. ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।

১১. ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়।

১২. ছোলায় আছে বেশি পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড যা গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে পারে।

১৩. ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড থাকে সেহেতু কাঁচা ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

১৪. ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

১৫. কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়।
১৬. ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল।

১৭. ছোলায় আছে আমিষ যা মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়

১৮. ছোলায় আরো আছে অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

১৯. ছোলা খাওয়ার পর বেশ অল্প সময়েই হজম হয়।

২০. কাঁচা ছোলা খাওয়ায় ত্বকে আনে মসৃণতা, ত্বকের লাবণ্য ফিরিরে আনে এবং গায়ের কালচে ভাবটিও কেটে যাবে।




২১. কাঁচা ছোলা বাঁটা মুখে ব্যবহার করলে ত্বকের সৌন্দর্য ও টান টান ভাব ফিরে আসে।

২২. মুখে ব্রণ বা মেছতা হরে কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে বেটে মুখে লাগান। এতে ব্রণ দূর হয় এবং মেছতার দাগ মুছে যায়।

২৩. ছোলায় আছে সালফার যা মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।

২৪. ছোলায় আছে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা।

২৫. ছোলার গায়ে যে আঁশ থাকে, তা পাকস্থলীকে (যেখানে খাবার জমা থাকে) করে গ্যাসমুক্ত, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

২৬. পরিষ্কার পানিতে কাঁচা ছোলা সেদ্ধ করে সেই পানি খেলে বদহজম থাকবে না

২৭. কাঁচা ছোলা চিবিয়ে খেলে এর রস দাঁতের মাড়িকে করে মজবুত।

২৮. ছোলায় যে খনিজ লবণগুলো রয়েছে তা দাঁত, চুল, হাড়কে করে মজবুত।

২৯. ছোলার প্রোটিন দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য।

৩০. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে রান্না কাঁচা ছোলা খেতে পারেন নির্দিষ্ট পরিমাণে, খাওয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই হজম হয়ে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে চলে যায় না।

সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাবার গোপন রহস্য

                                                                                   কাঁচা ছোলা-shusthodeho.net

ছোলার অসাধারণ কিছু গুণের কথা

ছোলা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার যা লিগিউম পরিবারের অন্তর্গত। ছোলাকে গারব্যাঞ্জো বিন ও বলা হয়। ফাইবার সমৃদ্ধ ছোলা ৭০০০ বছর পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম উৎপন্ন হয়। ছোলাকে সবজি হিসেবে ও প্রোটিন জাতীয় খাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। রমজান মাস এলে আমাদের দেশে ছোলার ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। ইফতারিতে মুড়ি ও পেঁয়াজু দিয়ে ছোলা মাখিয়ে খাওয়া হয়। ছোলা বা বুটের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথাই জেনে নিব আজ।

১।কোলেস্টেরল

ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

২। জিংক ও কপারের প্রাকৃতিক উৎস
জিংক ও কপার এমন দুটি খনিজ উপাদান যা ইমিউন কোষের কাজ ও উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এক কাপ রান্না করা কাঁচা ছোলা কপারের দৈনিক চাহিদার ৩০% ও জিংকের দৈনিক চাহিদার ১৭% পূরণে সক্ষম।

৩।অস্থির ভাব দূর করে

ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

৪।রোগ প্রতিরোধ করে

কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

ছোলার অসাধারণ কিছু গুণের কথা

                                                                                        কাঁচা ছোলা-shusthodeho.net

৫। জ্বালাপোড়া দূর করে

সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে: এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা। কাঁচা ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান।

৬। পরিপাক তন্ত্রের জন্য উপকারি
অন্ত্রে গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় কাঁচা ছোলা খেলে। বেশি পরিমাণে ছোলা খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই হচ্ছে এটি। তারপরও গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য উপকারি হতে পারে ছোলা খাওয়া। ২০১২ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত রিভিউ প্রতিবেদনে জানা যায় যে, খাদ্য তালিকায় ছোলার উপস্থিতি অন্ত্রের সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। ছোলা পরিপাকতন্ত্রের ভেতর দিয়ে বর্জ্য পদার্থ বাহির হয়ে যেতে সাহায্য করে যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।

৭।কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে

ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে: যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালিতে জমে থাকা পুরোনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাক ও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।

৮। ক্যান্সার রোধী
কয়েক ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে কাঁচা ছোলা। যখন অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়া ছোলার ফাইবারকে সক্রিয় করে তুলে তখন বুটাইরেট নামক মেটাবলিক উপাদান উৎপন্ন হয়। এই ছোট প্রক্রিয়াটির মধ্যদিয়ে পলিফারেশনকে দমন করে এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষকে নিজে নিজেই ধ্বংস হয়ে যেতে সাহায্য করে। ছোলার প্রধান ফাইটোস্টেরল বিটা সাইটোস্টেরল কোলন টিউমারের হার কমায়।

সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

                                                                                          কাঁচা ছোলা-shusthodeho.net

কাঁচা ছোলার অপকারিতা
১. ছোলা ভেজে না খাওয়া ভাল। – যাদের বমির উদ্রেক হয় তাদের না খাওয়াই ভালো।

২. মোটা ব্যক্তি বা উচ্চরক্তচাপ আছে যাঁদের তাঁরা কাঁচা কাঁচা ছোলা খান।

৩. মোটা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত তেল, মসলা দেওয়া ছোলা হলো ঝুঁকিপূর্ণ

৪ .হজম করতে না পারলে কাঁচা ছোলা খাবেন না।

৫. কিডনির সমস্যা যাঁদের রয়েছে (ডায়ালাইসিস চলছে, রক্তে ক্রিয়েটিনিন, ইউরিক এসিড বা ইউরিয়ার পরিমাণ বেশি) তাঁরা যেকোনো রকম ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কাঁচা ছোলার কিভাবে খাবেন
– রাতে পানিতে ভিজিয়ে সকালে পেয়াজের সাথে কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন।
– যারা প্রথম অবস্থায় খাওয়া শুরু করতে চান তারা হাল্কা ৫মিনিট সেদ্ধ করে খেতে পারেন।
– পুরপুরি সেদ্ধ করে লবন দিয়ে খেতে পারেন।
– এছাড়া বাসা-বাড়িতে ডালের মত রান্না করেও খেতে পারেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *