কিডনির পাথর গলে ফেলুন একটি মাত্র পাতায়, অবশেষে বিজ্ঞানীরা খুজে পেল!

739
কিডনির পাথর গলে ফেলুন একটি মাত্র পাতায়, অবশেষে বিজ্ঞানীরা খুজে পেল!
কিডনির পাথর-shusthodeho.net

কিডনির পাথর গলে ফেলুন একটি মাত্র পাতায়, অবশেষে বিজ্ঞানীরা খুজে পেল!বিজ্ঞানীরা খুজে বের করলো- তুলসী আমাদের সবার পরিচিত একটি ঔষধিগাছ। এ গাছের পাতায় বহু রোগ সারানোর উপকারি গুণ রয়েছে। তুলসী পাতার রস বা চা প্রতিদিন একগ্লাস করে পান করলে, আমাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা কমে যায়।

আর যদি কিডনিতে পাথর জমে তাহলে তুলসী পাতার রস টানা ৬ মাস পান করলে সেই পাথর গলে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।

এছাড়া সর্দি, কাশি, কৃমি, প্রস্রাবে জ্বালা কমায়, হজমকারক ও কফ গলাতে দারুন কাজ করে তুলসী পাতা। এটি ক্ষত সারাতে এন্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে।তুলসিপাতা দিয়ে চা ও মিশ্রণ তৈরির কয়েকটি প্রস্তুত প্রণালী নিম্নে দেয়া হলো :

কিডনির পাথর গলে ফেলুন একটি মাত্র পাতায়, অবশেষে বিজ্ঞানীরা খুজে পেল!
কিডনির পাথর-shusthodeho.net

তুলসী পাতার পানি

উপকরণ : দুই কাপ পানি ও কয়েকটি পাতা।

প্রস্তুত প্রণালী : একটি পাত্রে দুই কাপ পানি নিন। এর সঙ্গে কয়েকটি তুলসিপাতা সিদ্ধ করুন। ফুটে উঠলে নামিয়ে পান করতে পারেন। এই মিশ্রণটি গলা ব্যথা ও খুসখুসে কাশি কমিয়ে আপনাকে আরাম দেবে।

তুলসী-চা উপকরণ : ১০-১৫টি তুলসীপাতা, গুড়, পানি ও লেবুর রস।

প্রস্তুত প্রণালী : প্রথমে গুড় ও তুলসীপাতা বেটে নিন। এর মধ্যে দেড় কাপ পানি ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে চুলায় বসান। মিশ্রণটি ফুটে উঠলে নামিয়ে ফেলুন। এই চা পান করলে আপনার শরীর উষ্ণ থাকবে।

ভেষজ তুলসী-চা

উপকরণ : এক টুকরো আদা, গোলমরিচ, লবঙ্গ, তুলসীপাতা, দারুচিনি, এলাচ পরিমাণ মতো।

প্রস্তুত প্রণালী : পরিমাণমতো পানিতে উপরের উপকরণগুলো মিশিয়ে জ্বাল দিন।১০ মিনিট পর নামিয়ে ছেকে পান করতে পারেন।

এই ভেষজ তুলসী-চা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগ থেকে বাঁচানোর ক্ষমতা রাখে।

হার্বাল জুস

উপকরণ : আজওয়াইন, তুলসীপাতা, জিরা, আমচুর গুঁড়া, লবণ এবং পুদিনা পাতা পরিমাণ মতো।

কিডনির যেসব রোগ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার করা গেছে এর মধ্যে পাথর হওয়া একটি পুরনো রোগ। একটা সময় ছিল পাথরের চিকিৎসা মানেই ধারণা করা হতো অস্ত্রপচার করতে হবে। তবে এখন চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক উন্নত হয়েছে। অপারেশন ছাড়াই পাথর ধ্বংস করা যায় এবং ভালো  চিকিৎসা করা যায়। আজ ১২ মার্চ এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ১৯৭২ তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।

কিডনির পাথর প্রতিরোধ করুন সাত উপায়ে
কিডনির পাথর-shusthodeho.net

প্রশ্ন : কিডনির কোন অংশে পাথর হয়? পাথর হয় কেন?

উত্তর : কিডনির  যেসব রোগ বের করা গেছে  তার মধ্যে পাথর একটি পুরনো রোগ। পাথরগুলো কেবল কিডনিতে নয়, এর বিভিন্ন অংশে হতে পারে। কিডনিতে হতে পারে। কিডনির ভেতর থেকে বের হওয়া বৃক্ক নালীতে হতে পারে, প্রস্রাবের থলেতে হতে পারে এবং থলের থেকে বের হয়ে অনেক সময় পাথর মূত্রনালিতে আটকা পড়ে।

পাথর কেন হয় এর উত্তর দেওয়া মুশকিল। কেননা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন অনেক ক্ষেত্রে কারণ জানাই যায় না। তবে এটা জানা গেছে যে প্রত্যেকের দেহে পাথর যাতে না হয় এমন কিছু নিরোধক পদার্থ রয়েছে। সেই উপাদানগুলো যদি কম থাকে সেসব ব্যক্তির পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি।

প্রশ্ন : সেই উপাদনগুলো কী? পাশাপাশি জানতে চাইব, অনেকের ক্ষেত্রে পাথর একদমই হয় না আবার অনেকের ক্ষেত্রে হয়তো বার বার হয়। এর কারণ কী?

উত্তর : বংশগতভাবে এই সমস্যা হতে পারে। জীবনযাপনের কারণেও এটি হতে পারে । যারা পানি কম খায় তাদের এই সমস্যা হতে পারে। যারা মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করে তাদের প্রচুর ঘাম হয়, তাদেরও পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি। যারা ক্যালসিয়াম জাতীয় ট্যাবলেট প্রচুর পরিমাণে খায় এদেরও পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যাদের ঘন ঘন কিডনিতে ইনফেকশন হয় তাদের এই সমস্যা হতে পারে। আবার কিছু রোগের ক্ষেত্রে যেমন হাইপার পেরাথাইরোয়েডিজম অর্থাৎ পেরাথাইরোয়েড  গ্রন্থি থেকে কিছু হরমোন বের হয়, এটি হলে তাদের পাথর বেশি হয়ে থাকে। আবার কিছু জন্মগত কারণ রয়েছে।

কিডনি পাথর থেকে বাঁচতে চাইলে এড়িয়ে চলুন ১০ খাবার
কিডনির পাথর-shusthodeho.net

প্রশ্ন : একজন ব্যক্তি পাথরে আক্রান্ত হলে তার কী ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

উত্তর : লক্ষণ নির্ভর করে পাথরটি কোন জায়গায় আছে এবং সেটার আকৃতি কতটুকু তার উপরে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো পাথর টেনিসবলের মতো হয়ে গেছে, কিডনির ভেতরে পকেট আছে। আবার দেখা যায়, ছোট্ট একটা মটরশুটির মতো পাথর বৃক্কনালির মধ্যে গড়িয়ে এসে আটকা পড়েছে। এর কারণে তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথাটি কিছুক্ষণ থেমে আবার হয়।

প্রশ্ন : সাধারণত কোন জায়গায় ব্যথা হয়?

উত্তর : যদি কিডনিতে পাথর থাকে তবে কোমড়ের দুইপাশে নাভীর উপরের দিকে ব্যথা হয়। যদি  কিডনির পাথর নালিতে চলে আসে তাহলে সামনের দিক থেকে কুচকি পর্যন্ত, এমনকি জনন ইন্দ্রিয় পর্যন্ত ব্যথা চলে আসতে পারে। ব্যথার পাশাপাশি কারো কারো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়। অনেক সময় টাটকা রক্ত আসে, আবার প্রস্রাবের সঙ্গে মিশে ঘোলা হয়ে রক্ত আসতে পারে। আবার অনেক সময় পাথর ভেতরে আটকে থাকার জন্য ঘা হতে দেখা যায়। তখন ব্যথা হয় এবং কাপুনি দিয়ে জ্বরও আসতে পারে। সাধারণত রোগীরা এ ধরনের লক্ষণই নিয়ে আসে। তবে কখনো কখনো কোনো লক্ষণ ছাড়াই পাথর বড় হয়ে যেতে পারে কিডনির ভেতরে।

প্রশ্ন : একজন রোগীর এ রকম লক্ষণ দেখা দিলে আপনার কীভাবে নিশ্চিত হন এই সমস্যা কিডনি পাথর থেকে হয়েছে?

উত্তর : শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই এক্স-রে করে দেখা যায় পাথর কোথায় আছে। এর মাধ্যমে পাথরটা কোন জায়গায় আছে এবং এর আকৃতি কতটুকু সেটা মোটামুটি বোঝা যায়। এছাড়া আল্ট্রাসোনোগ্রাম করা হলে আরো পরিষ্কার হওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাথরটি যদি নিচে চলে আসে, তখন সেটাকে আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য ইন্টারভেনাস ইউরোগ্রাফি বা আইভিও করে পরীক্ষা করা হয়। এরপরও যদি কোনো দ্বিধা থাকে তাহলে সিটি স্ক্যান এবং এমআরআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। তা ছাড়া আরো কিছু পরীক্ষা করা হয়। ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষা করে দেখা হয় কোন কোন উপাদানগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে যাচ্ছে। এগুলো বের করার চেষ্টা করা  হয় যেন সমস্যাটি বারে বারে না হয় এর জন্য। যে উপদানগুলো বেশি আছে সেই খাদ্যগুলো পরিহার করতে বলি এবং তার জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ওষুধ দেই।

কিডনিতে পাথর, চিকিৎসা কী
কিডনির পাথর-shusthodeho.net

প্রশ্ন : এক সময় আমরা জানতাম কিডনির পাথর মানেই অপারেশন করা। কিন্তু এখন অনেক আধুনিক পদ্ধতি বের হয়েছে চিকিৎসার জন্য। একটু বলবেন,  কী কী আধুনিক পদ্ধতি রয়েছে? পাশাপাশি আরেকটি বিষয় জানতে চাইব, কিডনি ক্র্যাশ বা কিডনির পাথর ভাঙ্গা এই বিষয়গুলো এখন অনেক উচ্চারিত হয়, এগুলো কী?

উত্তর : একটা সময় আমরা ভাবতাম যেকোনো পাথর মানেই অপারেশন করতে হবে।এখন কিন্তু শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে কোনো অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে না। আর যদি দরকার পড়েও তখন লেপারোস্কোপি করেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাথর বের করে আনা যায়।

অনেক সময় পত্র পত্রিকায় দেখা যায় হারবাল বা হোমিও ওষুধ খেয়ে পাথর মুক্ত হয়ে গেছে। একটা বিষয় বলে রাখি,কিডনি পাথর পরিমাপ যদি ৬ মিলিমিটারের নিচে হয় তাহলে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে পাথর এমনিতেই বেরিয়ে যাবে। কোনো ওষুধের প্রয়োজন পড়বে না। শুধু পানি খেলেই হবে এবং একটু জগিং করতে হবে। সেই সঙ্গে আমরা দুটো ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার এবং টেমসোলসিন।আর এর থেকে বড় হলে অন্য চিকিৎসাগুলোর প্রয়োজন।

অন্য উপায়ে চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে স্টোন ক্র্যাশ। এটি এমনই একটি পদ্ধতি যেখানে পেট কাটার  প্রয়োজন পড়ে না।শুধু রোগী শুয়ে থাকবে, পাশে একটি যন্ত্র থাকবে যেখানে শক ওয়েব তৈরি করে দেওয়া হয়। পানির মধ্য দিয়ে সেই ওয়েভটা কিডনিতে ধাক্কা দেবে। ধাক্কা দিয়ে পাথরকে গুঁড়ো করে দেয়। প্রস্রাবের সঙ্গে এই গুঁড়োগুলো বেরিয়ে আসে। আর যাদের নালিতে পাথর অনেক বড় হয়ে আটকা পড়েছে; এমনিতে বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই সেই ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে একটি টিউব ঢুকিয়ে, প্রস্রাবের থলেতে গিয়ে, থলের থেকে বৃক্ক নালিতে গিয়ে, পাথরের কাছে গিয়ে এক ধরনের ভাইব্রেশন দিয়ে সেটাকে গুঁড়ো করে দেওয়া হয়। এই গুঁড়ো প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে।

আর যদি প্রস্রাবের নালিতে বা থলেতে পাথর থাকে তবে অবশ্যই সেটা টিউব দিয়ে প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে বের করে আনা হয়।

এভাবে বেশিরভাগ সময় অপারেশনের দরকার পড়ে না। আর যদিও দরকার পড়ে তবে লেপারোস্কোপি করে পেটে ছোট তিনটি ছিদ্র করে বের করে দেওয়া হয়।

কিডনির পাথর কিডনির পাথর কিডনির পাথর কিডনির পাথর কিডনির পাথর কিডনির পাথর কিডনির পাথর কিডনির পাথর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here