কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যা করবেন

কোষ্ঠকাঠিন্য খুব পরিচিত একটি সমস্যা এবং এই সমস্যাটি সব বয়সের মানুষদেরই হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার কারণে দেহে দেখা দিয়ে থাকে নানা ধরণের সমস্যা যেমনএসিডিটি, ক্ষুধা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, মাথা ব্যথা, বিষণ্নতা, ব্রণ, এবং মুখে আলসার এই সমস্যা আপনি চাইলে খুব সহজেই ঘরে বসে সমাধান করতে পারেন। জেনে রাখুন তাহলে এই সমস্যা সমাধানের উপায়গুলো।

কোষ্ঠকাঠিন্য

                                                                                 কোষ্ঠকাঠিন্য – shusthodeho.net

অনিয়মিত জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অনিদ্রা, কায়িক শ্রমের অভাব ইত্যাদির কারণে হজমের সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে ভয়াবহ আকার ধারণ করে আছে। বয়স যা হোক না কেন, কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন বেশিরভাগ মানুষ। কোষ্ঠকাঠিন্যকে আপাতদৃষ্টিতে তেমন ভয়ানক সমস্যা বলে মনে না হলেও থেকে কিন্তু হতে পারে বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হোন। কৃত্রিম ওষুধপত্রের চেয়ে প্রকৃতিতে থাকা ওষুধই বেশি কাজে দেয় এক্ষেত্রে। জেনে নিন ৩টি আয়ুর্বেদিক উপায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অব্যর্থ।

কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে কি বুঝায়?

এখানে, কোষ্ঠ অর্থ হচ্ছে মলাশয় আর কোষ্ঠকাঠিন্য অর্থ হচ্ছে মলাশয়ের মল ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া বা মলে কাঠিন্যহেতু মলত্যাগে কষ্টবোধ হওয়া।
সংজ্ঞাঃ যথেষ্ট পরিমাণ আঁশজাতীয় বা সেলুলোজ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরও যদি সপ্তাহে তিন বারের কম স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ত মলত্যাগ হয়, তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।

কোষ্ঠকাঠিন্য চিরতরে দূর করতে যেসব খাবার খাবেন

                                                                          কোষ্ঠকাঠিন্য – shusthodeho.net

কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ :

) স্বাভাবিক এর চেয়ে কম সংখ্যকবার মলত্যাগ করা
) ছোট, শুষ্ক, শক্ত পায়খানা হওয়া
) মল ত্যাগে অত্যন্ত কষ্ট হওয়া
) পায়খানা করতে অধিক সময় লাগা
) পায়খানা করতে অধিক চাপের দরকার হওয়া
) অধিক সময় ধরে পায়খানা করার পরও পূর্ণতার অনুভূতি না আসা
) পেট ফুলে থাকা
8) আঙুল, সাপোজিটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্যে পায়খানা করা
) মলদ্বারের আশপাশে তলপেটে ব্যথার অনুভব হওয়া
১০) মলদ্বারে চাপের অনুভূতি হওয়া।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার খুব সহজ কিছু সমাধান

                                                                                   কোষ্ঠকাঠিন্য – shusthodeho.net



কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ১৫ টি ঘরোয়া উপায়

অনেকেই সারা বছর কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন। খুবই সাধারণ ব্যাপার হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যথাকষ্ট অস্বস্তি। দুই থেকে তিন দিন মলত্যাগ না করতে পারলে তা কোষ্ঠকাঠিন্যের রূপ নেয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, ঘরোয়া উপায়ে সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি মেলা সম্ভব।
চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পরিত্রাণের ঘরোয়া  ১৫ টি পদ্ধতি:

. পাকা কলা

পেট খারাপ হলে অনেক সময়ই কাঁচাকলার তরকারি বা ঝোল খাওয়ানো হয়। আর কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয় সমস্যা দূর করতে পাকা কলার ওপরই নির্ভর করে থাকেন অনেকেই।

. নাশপাতি

নাশপাতিতে ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত। ছাড়া ফলে প্রচুর পরিমাণে পানি ফাইবার রয়েছে, যা আরাম দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যে।

. লেবু

লেবুর রস কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করতে খুব সহায়তা করে থাকে।

হালকা কুসুম গরম পানিতে তে লেবু চিপে নিন। চাইলে এতে সামান্য লবণ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
সকালে একদমই খালি পেটে লেবু পানি খেয়ে নিন। আবার সন্ধ্যার দিকে আরেক গ্লাস খান।
এই পানীয়টি প্রতিদিন নিয়ম করে খান দেখবেন খুব দ্রুতই Constipation সমস্যা সেরে যাবে।

. তরমুজ

গরমকালের একটি রসালো ফল তরমুজ। এই ফলও কোষ্ঠাকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করে।

. ওটস

ওটসে দুইধরণের ফাইবার উপস্থিত। এর মধ্যে একটি মলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, অপরটি শরীরের পানির সঙ্গে মিশে মলকে সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।
এছাড়া দই, কফির মতো আরও বেশ কিছু খাবার পানীয় আছে যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরিমাণমতো খাবার পানি পানের মাধ্যমে সমস্যা থেকেই সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

. ক্যাস্টর অয়েল
কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করার অন্যতম সহজ উপায় হল ক্যাস্টর অয়েল। সকালে খালি পেটে চামচ ক্যাস্টর অয়েল খেয়ে নিন। দেখবেন খুব দ্রুতই আপনার পেটের সমস্যা রোধ হয়ে যাবে। চাইলে কোন ফলের জুসের সাথে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খেতে পারেন।

. মধু

Constipation সমস্যা দূর করতে প্রিতিদিন মধু খেতে ভুলবেন না। এই সমস্যায় মধু খুব উপকারী।

প্রতিদিন / বার এক চামচ করে মধু খান।
কুসুম গরম পানির সাথে লেবুর রস মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি খেয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই মিশ্রণটি খেয়ে নিন।

. আমন্ড

অনেকে সকালের নাস্তার সময় অথবা হাঁটার সময় আমন্ড খেতে ভালোবাসেন। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আমন্ড খুব উপকারী তা হয়তো অনেকেই জানেন না। কয়েকটা আমন্ড পরিমাণমতো পানি পান কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সহজেই মুক্তি দিতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সহজ উপায় কি

                                                                                     কোষ্ঠকাঠিন্য – shusthodeho.net

. পালং শাক

হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে পালং শাক এর উপকারিতা অনেক বেশি। বিশেষ করে যখন আপনার Constipation সমস্যা দেখা দিবে তখন পালং শাক খেতে ভুলবেন না।

. কোষ্ঠ কাঠিন্য সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পালং শাক রাখুন। আপনি চাইলে এটি সালাদের মতো করে খেতে পারেন কিংবা রান্না করেও খেতে পারেন।

. যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুব বেশি জটিল আকার ধারণ করে থাকে তাহলে, পালং শাক জুস বানিয়ে অর্ধেক পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন বেলা নিয়ম করে খেয়ে নিন। আপনার এই সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

১০. কলমিশাক

কলমিশাক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।কলমিশাকের পাতা কাণ্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ থাকে। আঁশ খাদ্য হজম, পরিপাক বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে। কলমিশাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।

১১. গাজর

গাজর একটি পরিচিত সবজি যা হাতের কাছেই পাওয়া যায়। অনেকের প্রিয় এই সবজিটি প্রাকৃতিক ডায়াটেরি ফাইবারের বেশ ভালো উৎস। মাত্র আধা ইঞ্চির খণ্ড গাজরে রয়েছে প্রায় . গ্রাম ফাইবার। প্রতিদিন গাজর খাওয়ার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে।

১২. শসা

শসার ডায়াটেরি ফাইবার শসাকে করে তোলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার মহা ঔষধ। কারণ শসার বেশির ভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি। তাই নিয়মিত শসা খেলে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য।

১৩. পেয়ারা:

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, ওজন কমাতে পেয়ারার জুরি নেই। তাই যারা পেটের সমস্যায় ভুগছেন তারা পেয়েরা খেতে পারেন।

১৪. আপেল

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে একটি খোসাসহ পুরো আপেল খান। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক কাপ কুসুম গরম পানি পান করুন। এটা হজমে সহায়তা করবে এবং কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করবে।

১৫. সাদা এলাচ

বড় ১টি সাদা এলাচ এক কাপ গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। সকালবেলা এই এলাচটি থেঁতো করে দুধসহ খেয়ে ফেলুন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাটি যদি ভয়াবহ রকমের বেশি হয় তাহলে সকাল রাতে একইভাবে দুধসহ এলাচ খান।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা :

) সিরাপ লেকটুলোজ (বাজারে এভোলেক, অসমোলেক্স, টুলেক, লেকটু ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়) / চামচ করে দিনে বার খাওয়া, তবে আগেই বলেছি এসব ওষুধ নিয়মিত খাওয়া ভালো নয়, ডাক্তারের পরামর্শ সাপেক্ষে খেতে হবে

) ট্যবলেট. বিসাকডিল (বাজারে ডুরালেক্স, ডাল্কোলেক্স ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়) মিঃগ্রাঃ রাতে প্রয়োজন অনুপাতে // টা সেবন করা, তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ সাপেক্ষে

) এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার থাকলে এরিয়েন মলম বা সাপোসিটরি মলদ্বার তার আশপাশে দিনে / বার ব্যবহার করা

) মল শক্ত হয়ে মলাশয়ে আটকে গেলে গ্লিসারিন সাপোসিটরি / টা মলদ্বারে ব্যবহার করা

) / দিন পায়খানা না হলে বা মল শক্ত হয়ে গেছে মনে হলে পায়খানা করার আগে মলদ্বারে জেসোকেইন জেলি লাগিয়ে নেয়া, এতে রক্তপাত এনাল ফিশার বা মলদ্বারে আলসার এর সম্ভাবনা কমে যায়।

No Responses

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *