জলবসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা

জলবসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা:

জলবসন্ত (চিকেন পক্স), এটি ভ্যারিসেলা জুস্টার ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হওঁয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। অস্বস্তিকর হলেও বেশিরভাগ লোক ১-২ সপ্তাহের মধ্যে এই রোগ থেকে পরিত্রান পায়।

ফোস্কার মত ফুসকুড়ির সৃষ্টি হয়, যা প্রথমে মুখ এবং হাত-পা এ প্রদর্শিত হয় এবং তারপর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা

বসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা – shusthodeho.net



জলবসন্ত (চিকেন পক্স)এর মূল কিছু বিষয়

  • জলবসন্ত (চিকেন পক্স) ভ্যারিসেলা জুস্টার ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়।
  • ভ্যারিসেলা জুস্টার ভাইরাস ১০-২১ দিনের মধ্যে শরীররে ছড়িয়ে পড়ে।
  • জলবসন্ত (চিকেন পক্স) অত্যন্ত সংক্রামক রোগ।
  • সংক্রমণ ঠান্ডা এবং ফ্লু অনুরূপ ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
  • লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি পর্যবেক্ষণ করে সাধারণত নির্ণয় করা যায়।
  • বসন্তকালে সাধারনত এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়।
  • শিশুরা সবচেয়ে বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়।
  • এটি রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন থেকে অন্যজনের ছড়িয়ে পড়ে।
  • এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনে তার আর এ রোগ সাধারনত হয় না।
বসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা

বসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা – shusthodeho.net



লক্ষণসমূহ

  • ফুসকুড়ি
  • জ্বর
  • মাথা ব্যাথা
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • বমি বমি ভাব
  • র‍্যাশ
  • দাগ
  • ফোসকা

অন্যান্য উপসর্গগুলি-

কয়েকজন মানুষের আরো গুরুতর লক্ষণ রয়েছে। নিম্নলিখিত ঘটলে, অবশ্যই ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

  • স্পট বা ফোসকা বা গুটি চারপাশে ছড়িয়ে পড়া
  • ত্বকে ব্যথা সৃষ্টি হওয়া
  • লাল হয়ে ওঠা
  • গুটি ফেটে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হওয়া
  • শ্বাস কষ্ট হওয়া
  • খিঁচুনি হওয়া
  • ফোসকা গলে যাওয়া ইত্যাদি।
বসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা

বসন্ত বা চিকেনপক্স এর লক্ষণ, কারন এবং চিকিৎসা – shusthodeho.net

যেভাবে এ রোগ ছড়ায়

জলবসন্ত বা চিকেনপক্স খুব সহজেই একজনের থেকে অন্যজনের ছড়িয়ে পড়ে। যেমন-

  • আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসলে
  • আক্রান্ত রোগীর ব্যবহূত জিনিস স্পর্শ করলে
  • আক্রান্ত রোগীর নিঃশ্বাসের মাধ্যমে
  • আক্রান্ত রোগীর হাঁচি ও কাশি থাকলে

এই রোগ যাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে-

  • শিশু
  • বয়স্ক
  • প্রাপ্তবয়স্ক
  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলির মানুষ
  • গর্ভবতী মহিলা

চিকিৎসা

জলবসন্ত (চিকেন পক্স) সাধারণত চিকিৎসা ছাড়া এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু টিকা দ্বারা এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে খিঁচুনি বা অস্বস্তির লক্ষণগুলি কমানো যায় এবং কীভাবে অন্য লোকদের ছড়ানো থেকে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় এ সম্পর্কে জানা যায়।

ব্যথা বা জ্বর: টাইলেনোল (অ্যাসিটামিনোফেন), যা ফার্মেসী থেকে ক্রয় করতে পারেন। এটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময়ে অ্যাসিট্যানিনেফেন (টাইলেনোল) ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিহাইড্রেশন এড়িয়ে চলুন: ডিহাইয়েড্রেশন প্রতিরোধ করার জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল, বিশেষ করে পানি পান করা উচিৎ।

মুখের ব্যথা: মুখের মধ্যে ফোলা থাকলে শর্করা-মুক্ত পপসিলগুলি বিষন্নতা সহজলভ্য করতে সহায়তা করে। লবণাক্ত বা মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

চুলকানি: চুলকানি গুরুতর হতে পারে, কিন্তু দাগ এর ঝুঁকি কমাতে চুলকানি কমানোর জরুরি।

 

নিচের প্রতিরোধমুলক উপায়গুলি চুলকানি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে-

  • হাতের নখ পরিষ্কার এবং যতটা সম্ভব ছোট রাখা।
  • ঘুমানোর সময় বাচ্চাদের উপর মোটা কাপড় বা এমনকি মোজা পড়িয়ে রাখা, যাতে রাতে স্ক্র্যাচিংয়ের কোন প্রচেষ্টা না করতে পারে।
  • কার্যকরী লোশন ব্যবহার করা।
  • আলগা কাপড় পরা

যেকোনো ওষুধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিতে হবে।

টিকা

জলবসন্ত (চিকেন পক্স) প্রতিরোধের জন্য টিকা নিতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে-

  • ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ ও ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।
  • ১৩ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে, ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে হবে।
  • কিন্তু গর্ভবতী মা এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ টিকা নেওয়া যাবে না।

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স খুব জটিল বা মারাত্মক কোন রোগ নয়। কিন্ত সঠিক নিয়ম অনুসরন করলে সংক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব। বেশি সতর্কতার প্রয়োজন শিশুদের, গর্ভবতী মা এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তির। কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

কি করলে আমারা আমাদের পোস্ট আরও ভাল করতে পারি এই বিষয়ে অবশ্যই মতামত প্রকাশ করবেন।

আরও কি টাইপের পোস্ট বা ক্যটাগরি আমরা যুক্ত করতে পারি এই বিষয়ে যদি মতামত থাকে তাও ব্যাক্ত করার অনুরোধ রইল।

ধন্যবাদ।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *