জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

গ্রীষ্মকাল সবরকম মৌসুমী ফলে ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে অনেক ধরনের এবং অনেক জাতের ফল পাওয়া যায়। যেমন- আম, জাম, লিচু, তরমুজ, জামরুল এবং কাঁঠালসহ অন্যান্য বাহারি ধরনের  ফল। এর মধ্যে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু একটি ফল- কালো জাম। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষেরা এই ফল অনেক পছন্দ করে থাকেন। কালো জাম বেগুনি রং এর হয়। এই ফল খেতেও অনেক সহজ, কারন এর কোন শক্ত খোসা নেই। এই জামের পুষ্টিগুণ বলে শেষ করা যাবে না। কালো জামের পুষ্টিগুণ ও খাদ্য গুণ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-

জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা



কালো জামের পুষ্টিগুণ

কালো জাম খুব উপকারী একটি ফল। কালো জামের পুষ্টিগুণগুলো হল-

    • ভিটামিন ‘এ’
    • ভিটামিন ‘সি’
    • ফাইবার
    • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
    • স্যালিসাইলেট
    • গ্লুকোজ
    • ডেক্সট্রোজ
    • ফুকটোজ
    • পানি ৮৩.১৩ গ্রাম
    • আমিষ ০.৭২ গ্রাম
    • শর্করা ১৫.৫৬ গ্রাম
    • ফ্যাট ০.২৩ গ্রাম
    • আয়রন ০.১৯ মিলিগ্রাম
    • ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম
    • ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম
    • ম্যাগনেশিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম
    • পটাশিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম
    • সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম
    • থায়ামিন (ভিটামিন-বি ১) ০.০০৬ মিলিগ্রাম
    • রিবোফ্লাবিন (ভিটামিন-বি ২) ০.১২ মিলিগ্রাম
    • নিয়াসিন (ভিটামিন-বি ৩) ০.২৬০ মিলিগ্রাম
    • প্যানথোনিক অ্যাসিড (ভিটামিন-বি ৫) ০.১৬০ মিলিগ্রাম
    • ভিটামিন-বি ৬ ০.১৬০ মিলিগ্রাম

 

  • ভিটামিন-সি ১৪.৩ মিলিগ্রাম
জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা



কালো জামের খাদ্য গুণ

১. ডায়াবেটিস শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ

কালো জাম ডায়াবেটিসের একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয় যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। কালো জাম রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

২. ক্যান্সার প্রতিরোধ

কালো জামের আরেকটি বড় সুবিধা হল এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করেজাভা প্লামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের উচ্চ মাত্রার এই ফলটি ক্যান্সার-বিরোধী।

৩. হার্ট এর জন্য উপকারী

কালো জাম হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ করেকালো জাম উচ্চ পটাসিয়ামযুক্ত। প্রতি ১০০ প্লাম কালো জামের মধ্যে ৫৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম রয়েছে। হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে পটাসিয়াম সহায়ক।

৪. ত্বককে উজ্জ্বল করে

সুন্দর ত্বক আপনাকে আরও আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি করেকালো জাম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আপনাকে  মসৃণ এবং উজ্জ্বল ত্বক দিবেকারণ কালো জাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা ত্বকে কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে

৫. হাড় এবং দাঁত স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ

টাটকা কালো জামে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি রয়েছে যা হাড় এবং দাঁত মজবুত করে। এতে রয়েছে ১৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩৬ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১৬.৭ মিলিগ্রাম ফসফরাস এবং ১.৭ মিলিগ্রাম লোহা। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং লোহা হল পুষ্টি যা হাড়ের ঘনত্বের বজায় রাখে এবং কেভিটি প্রতিরোধ করে। ক্যালসিয়ামের অভাবের ফলে বয়স্কদের মধ্যে আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগের ঝুঁকি থাকে। হাড়ের ভঙ্গুরতা রোগের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এবং মহিলাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে কাজ করে।

৬. কোষ গঠন

শরীরের লাল রক্ত কণিকায় একটি বিশাল প্রভাব রাখে এই ফলটিলাল রক্ত কোষের অভাবে অ্যানিমিয়া, মানসিক ব্যাঘাত এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। কালো জামে খেলে শরীরে লাল রক্ত কণিকা তৈরি হয়

জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

জেনে নিন কালো জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

৭. পেটে ব্যথা কমায়

কালো জামে রয়েছে এন্থোকিয়ানিন, কেমফেরোল এবং এল্যাগেজিক এসিড যা হজম এবং অন্ত্রের কার্যকারণকে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হ্রাস করতে সাহায্য করে।

৮. লিম্ফ্যাটিক ডিসঅর্ডার প্রসারিত করতে সহায়তা করে

কালো জাম সাধারণত যকৃতের দ্বারা সৃষ্ট পিঠের ব্যথা, পেটে অস্বস্তি, হ্রাস করে এবং ওজন হ্রাস করতেও সহায়তা করে।

৯. ইনফেকশন দূর করে

কালো জামে ম্যালিক এসিড, গ্যালিক এসিড, অক্সালিক এসিড এবং ট্যানিন আছে এই জন্য এই ফল ম্যালেরিয়া রোধী, ব্যাকটেরিয়ারোধী এবং গ্যাস্ট্রোপ্রোটেক্টিভ হিসেবে কাজ করে।

১০. পরিপাকে সাহায্য করে

জাম পাতা ব্যবহার করা হয় ডায়রিয়া ও আলসার নিরাময়ে। তাই এটি পরিপাকে সাহায্য করে।

এছাড়াও কালো জাম অনেক সমস্যার সমাধান করে-

  • মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ
  • স্মৃতিশক্তির প্রখরতা
  • কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • কাশি ও টনসিল ফুলে যাওয়া প্রতিরোধ
  • জ্বর জ্বর ভাব দূর করা
  • দাঁত, চুল ও ত্বক সুন্দর করে
  • দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী করে
  • জরায়ু, ডিম্বাশয়, মলদ্বার এর রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি।

 

কি করলে আমারা আমাদের পোস্ট আরও ভাল করতে পারি এই বিষয়ে অবশ্যই মতামত প্রকাশ করবেন।

আরও কি টাইপের পোস্ট বা ক্যটাগরি আমরা যুক্ত করতে পারি এই বিষয়ে যদি মতামত থাকে তাও ব্যাক্ত করার অনুরোধ রইল।

ধন্যবাদ।

 

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *