রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয়

রমজান খুব পবিত্র একটি মাস এবং এর সময়কাল ২৯ অথবা ৩০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। রমজানে রোজা রাখার সময় মুসলমানদের খাওয়া, পান করা, ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হয়। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য বা তরল ভোজন থেকে নিজেকে সংযত রাখতে হয়। বেশিরভাগ মানুষ এই সময় প্রতিদিন ২ বেলা খাবার খেয়ে থাকে- সূর্যোদয় এর আগে এবং সূর্যাস্ত এর পর।

ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তিতে মুসলিম ব্যক্তিদের উপর রোযা ফরয। কিন্তু কেউ যদি অসুস্থ থাকেন, তাহলে তার রোযা না রাখলেও চলে। তবুও ডায়াবেটিস সহ অনেক রোগীরা রমজানের সময় রোযা রাখার উপর জোর দেন যা রোগীর শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ যে চিকিৎসাবিদরা রমজানের সময় রোজা রাখার সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে রোগীদের সচেতন করে থাকেন।

বিশ্বে প্রায় ৫০ মিলিয়নেরও বেশি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। এই ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে গিয়ে অনেক রকম বিভ্রান্তির সম্মুখীন হন। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য রমজান এর আগে দরকার পূর্ব-প্রস্তুতি।

ডায়াবেটিস, Diabetes


খাদ্য

  • রমজান মাসে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পরিমানে পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও অন্যান্য চিনিবিহীন পানীয় গ্রহণ করে দৈনিক পানির চাহিদা পূরণ করতে হবে।
  • ইফতারের সময় অনেক বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে একটু পর পর খাওয়ার অভ্যাস করা উচিৎ।
  • রোযা রাখার কারনে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে। তাই চাল, গম, ভুট্টা ও ডালের তৈরি খাবার খেতে হবে।
  • অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
  • ভাজা-পোড়া খাদ্য না খাওয়াই ভাল।
  • আঁশযুক্ত খাবার-কাঁচা ছোলা বা কম তেল দিয়ে ছোলা ভাজা বা মটর বা ডাবরি, চটপটি, চিড়া-দই, মুড়ি খেতে পারেন।
  • ডায়াবেটিস রোগীরা বেশি করে সালাদ খাবেন।
  • ইফাতারের পর ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • সেহরি অবশ্যই খেতে হবে, কোন মতেই বাদ দেয়া যাবে না।
  • সেহরি একটু দেরি করে খাবেন।
  • সেহরিতে শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।

ডায়াবেটিস, Diabetes



ব্যায়াম

ডায়াবেটিস রোগীকে অবশ্যই নিয়ম করে ব্যায়াম করতে হবে।

রমজানের সময় দিনের বেলা ব্যায়াম না করাই ভাল।

ইফতারের পর পরই ব্যায়াম করা উচিৎ না।

রাতে ঘুমানোর আগে হাল্কা ব্যায়াম করতে হবে।

রোযা রেখে বেশি হাঁটাহাঁটি করা যাবে না।

রোযা রেখে খুব কঠিন ব্যায়াম করা উচিৎ নয়।

ডায়াবেটিস, Diabetes

ওষুধ

  • ডায়াবেটিস রোগীকে অবশ্যই নিয়মমত ওষুধ খেতে হবে।
  • ইনসুলিন নিতে হবে সময় মত।
  • রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীর ওষুধ ও ইনসুলিন নেয়ার সময় পরিবর্তন করতে হবে।
  • ইনসুলিন নেয়ার মাত্রা পরিবর্তন করতে হবে।
  • রক্তে শর্করার স্বল্পতা থাকলে অন্য ওষুধ ও অ্যানালগ ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারেন।

ডায়াবেটিস, Diabetes

যা মনে রাখা উচিৎ

  • যদি আপনি ইনসুলিন নিয়ে থাকেন, তবে রোযা শুরু হওয়ার আগে কম পরিমানে আপনার ইনসুলিনের প্রয়োজন হবে।
  • ইনসুলিনের ধরন আপনার স্বাভাবিক ধরন থেকে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
  • প্রি-মিক্সড ইনসুলিন ব্যবহার করা উচিৎ না রোযা থাকাকালীন।
  • ইফতারে আপনার খাদ্য তালিকায় ফল, শাকসব্জি, বাসমতি চাল ও ডাল ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
  • রোযার সময় আপনার রক্তের গ্লুকোজ এর মাত্রা ঘন ঘন পরিক্ষা করবেন।
  • যখন আপনি ইফতার করবেন, তখন অল্প পরিমাণের খাদ্য গ্রহন করবেন এবং মিষ্টি বা ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন।
  • সূর্যোদয় আগ মুহূর্তেই খেতে চেষ্টা করবেন।
  • রোযা ভাঙ্গার পর আপনি প্রচুর পরিমাণে পানি এবং চিনি-মুক্ত শরবত পান করবেন।

ডায়াবেটিস, Diabetes

পরিশেষে, এটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয়- আপনি রোযা রাখবেন কিনা। যদি আপনি রোযা রাখতে ইছুক তবে রমজানের আগে আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্য-পরামর্শদাতার সাথে পরামর্শ করুন। এই তথ্য আপনাকে রমজানের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করবে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *