সন্তান প্রসব এর সময় স্বামীকে পাশে রাখা জরুরী যে কারণে?

সন্তান প্রসব এর সময় স্বামীকে পাশে রাখা জরুরী যে কারণে?

সন্তান প্রসবের সময় স্বামীকে পাশে রাখা জরুরী যে কারণে?

সন্তান প্রসব -shusthodeho.net

সন্তান প্রসব এর সময় স্বামীকে পাশে রাখা জরুরী যে কারণে বলছেন গবেষকরা।  গবেষকদের মতে বহির্বিশ্বে স্ত্রীর ডেলিভারির সময় স্বামীকে পাশে রাখা উচিত। এতে স্ত্রীর মন অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

ডেলিভারির সময় স্বামীকে পাশে পেলে স্ত্রীরা ভাবে নতুন কোন মানুষকে পৃথিবীতে আনতে হয়তো আমার মৃত্যুও হতে পারে, কিন্তুু সৌভাগ্য আমার যে, আমার এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আমার স্বামী আমার পাশে আছে।

সন্তান প্রসব এর স্ত্রীরা আরও ভাবে, আপাতত আমি আমার স্বামীর চেহাড়ার দিকে তাকিয়ে সব যন্ত্রনা হাঁসিমুখে মেনে নিতে পারবো। কিন্তু অনেক দেশেই আঁতুড়ঘর তো দুরের কথা হসপিটাল এর অপারেশন রুমের আশেপাশে ও স্বামী কে রাখা হয়না।

তবে সন্তান প্রসব এর স্বামী পাশে থাকতে চাইলে এ বিষয়ে অনেক ডাক্তারের আত্মসম্মানে লাগে। কিন্তু একজন স্বামী যদি স্ত্রীর পাশে থেকে ডেলিভারি বা সিজারের কষ্ট টা দেখে তবে পরবর্তিতে স্ত্রীর সাথে কখনোই খারাপ ব্যবহার করবে না বলে মনে করেন গবেষকরা।

গবেষকরা আরও মনে করেন, সে যতো নিষ্ঠুর পুরুষ-ই হোক না কেন। একটু হলেও তার স্ত্রী প্রসব যন্ত্রনার কথা উপলব্ধি করে তার স্ত্রী কে সব সময় মায়ার চাদরে আগলে রাখবে।

স্বাভাবিক প্রসব কখন হয়

সন্তান প্রসব -shusthodeho.net

সন্তান জন্মদানকালে যা জানা দরকার

সন্তান প্রসব এর প্রতিটি নারীর জন্য মাতৃত্বকে গৌরবের ও মধুরতম অভিজ্ঞতা বলা হয়ে থাকে। তবে অনাগত সন্তান জন্মদানের এ সময়টাতে প্রতিটি নারীই অনাকাঙ্খিত ঘটনার শঙ্কায় থাকেন। এ কারণে প্রতিটি মা সন্তান জন্মদানে শেষ মুহূর্তটিতে ঘরে থাকার চেয়ে হাসপাতালেই কাটাতে চান।

একজন নারীর জন্য অবশ্য সন্তান জন্মদান যতোটা মধুর, ততোটাই কষ্টের। প্রসব ব্যথার যন্ত্রণা তো আছেই, সন্তান কখন দুনিয়ার মুখ দেখবে সেটা নিয়েও উদ্বেগ থাকে প্রতিটি মায়ের মন। প্রায় প্রতিটি মায়েরই আশঙ্কা থাকে, চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়ার আগেই হয়তো সন্তান প্রসব হয়ে যাবে।

সন্তান প্রসব এর এ বিষয়ে মার্কিন চিকিৎসক এবং প্রসূতি ও শিশু বিশেষজ্ঞ রিচেল ফিটজ বলছেন, সন্তান প্রসব এর শেষ মুহূর্তের এ উদ্বেগ নারীকে শুধু শঙ্কাতেই ফেলে। আসলে সন্তান জন্ম নেওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। প্রায় ৩১ বছর ধরে প্রসূতি বিষয়ে কাজ করা এ বিশেষজ্ঞ বলছেন, আগ মুহূর্তের সচেতনতা অহেতুক উদ্বেগকে অনেকটাই কমিয়ে দেবে। জেনে নেওয়া যাক রিচেলের পরামর্শগুলো :

সন্তান জন্মদানকালে যা জানা দরকার

সন্তান প্রসব-shusthodeho.net

১. প্রসব ব্যথা বাড়তে থাকবে
সন্তান জন্মদানের অন্তত ৩ দিন আগে থেকেই প্রসব যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। তবে হঠাৎ ব্যথার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক মা ভাবেন এখনই বোধহয় কাঙ্খিত মুহূর্তটি চলে এসেছে। এ কারণে অনেকেই দ্রুত হাসপাতালে যেতে চান। তবে রিচেলের মতে, সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখার আসল মুহূর্তটি সেটা নয়; মূলত গর্ভাদ্বার নরম ও টানটান হয়ে যায় বলেই ব্যথার পরিমাণও বাড়তে থাকে। এ ছাড়া প্রসবের জন্য সন্তানের অবস্থানেরও পরিবর্তন ঘটে এ সময়। রিচেলের পরামর্শ হচ্ছে, এ সময়টাতে বেশি নড়াচড়া না করে বাড়িতে বিশ্রামে থাকাই মায়ের জন্য ভালো।

২. প্রসবের সময়
প্রসবের জন্য গর্ভাদ্বার প্রস্তুত হলে সন্তান জন্মদানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ সময় জরায়ুর মুখও অন্তত ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়। শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের নিঃসরণ ঘটে। এ সময় নারীর মস্তিষ্কে ভিন্ন ধরনের অনুভূতির সৃষ্টি হয়। শরীরের পেশীগুলোতেও পরিবর্তন ঘটে। রিচেলের মতে, পেশীগুলো বেশ শক্ত হয়ে যায়। তাই প্রতিটি মাকে এ সময় বেশি করে শ্বাসগ্রহণ ও ত্যাগ করতে হবে।

৩. ব্যথা মানেই প্রসব নয়
রিচেল বলছেন, প্রসবকালীন মুহূর্ত আসলে ধৈর্যধারণের সময়। কাজেই ব্যথা উঠলেই হাসপাতালে গেলে সন্তান প্রসব হবে এমন ধারণা ভুল। অনেক নারী এ সময় তাড়াহুড়ো করে বলে সিজারের ছুরি কাঁচির নিচে নিজেদের ফেলে দেন। তবে কিছুটা ধৈর্য ধরলেই হতে পারে স্বাভাবিক প্রসব।

৪. প্রসবকালে শ্বাস-প্রশ্বাস
প্রসবকালীন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে বাতাস ঢোকানো সন্তানের মায়ের জন্য ভালো। অনেকে গ্যাসের মাধ্যমে অক্সিজেনও গ্রহণ করে থাকেন। এর ফলে অনেক নারীর মধ্যে মাদকতার অনুভূতির সৃষ্টি করে। তবে সবার ক্ষেত্রে নয়! কারো কারো আবার বমি ভাবেরও উদ্রেক করে। অনেকে আবার প্রসব ব্যথা এড়াতে ডায়ামরফিনের মতো ড্রাগও ব্যবহার করেন। রিচেল বলছেন, এতে নারী নিস্তেজ হয়ে ঘুমের রাজ্যে পৌঁছে গেলেও ব্যথা থেকে আসলে পরিত্রাণ মেলে না। বরং মা নিস্তেজ হওয়ায় সন্তানও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ফলে প্রসব প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘায়িত হয়।

৫. গর্ভাদ্বার যখন ভাঙে
প্রসবের আগ মুহুর্তে গর্ভাদ্বার ফেটে যায়। যাকে আমরা ‘পানি ভাঙা’ বলে থাকি। এ সময় স্পষ্টই এ আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ যারা লেবার রুমে থাকেন তাদের কানে ‘পপ’ ধরনের শব্দ কানে আসে। এরপরই বুঝতে হবে কাঙ্খিত সময় এসেছে। পানি ভাঙার ফলে প্রসবকালীন মায়ের মধ্যে উষ্ণ অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এ পানি সন্তানকে সহজেই প্রসবের জন্য ভূমিকা রাখে।

৬. প্রসবে চাপ প্রয়োগ
সন্তান প্রসব এর কালীন নারীর ভেতর থেকেই চাপ বোধের সৃষ্টি করে। এ চাপ প্রসবের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলছেন রিচেল ফিটজ। বাইরে থেকে ধাত্রী বা চিকিৎসকের জন্য সন্তান বের করা অনেক সহজ করে দেয় এ চাপ।

সব কিছুর পর রিচেল বলছেন, সন্তান জন্মদান যন্ত্রণাদায়ক হলেও মায়ের আশঙ্কার কিছু নেই। এ সময় একজন মা মনোসংযোগ এবং দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাস প্রসবকালীন মুহূর্তকে খুব সংক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে

বাচ্চা ডেলিভারির জন্য হসপিটালে যাবার সময় এই ১০ টি জিনিস সাথে রাখুন

বাচ্চা ডেলিভারির জন্য হসপিটালে যাবার সময় এই ১০ টি জিনিস সাথে রাখুন

সন্তান প্রসব -shusthodeho.net

সন্তান প্রসব এর জন্য আপনাকে কিছুদিন হাসপাতালে থাকতেই হবে। তাই হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে কিছু প্রস্তুতি নেয়া উচিত । তা না হলে দেখা যাবে আপনার স্বামীকে বারবার হাসপাতাল আর বাসায় দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে। এটি যদি হয় আপনার প্রথম সন্তান তাহলে আপনি অনেক কিছু সম্পর্কে অবগত নাও থাকতে পারেন।

হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে আপনার এমন কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী আপনার সঙ্গে থাকা উচিত যা হাসপাতালে অবস্থানের সময়টা আপনার সুন্দর কাটবে। সুতরাং জেনে নিন এমন কিছু বিষয় যা না জানলেই নয়।

১. প্রেসক্রিপশন
ব্যাগে অবশ্যই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন , বিভিন্ন টেস্ট রিপোর্ট, প্রয়োজনীয় ঔষধ যথাস্থানে গুছিয়ে রাখুন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় এবং আপনার যথাযথ ডায়াগনোসিসের জন্য এসব প্রেসক্রিপশন, রিপোর্ট অবশ্যই প্রয়োজন হবে। রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশনের জন্য একটি ফাইল মেইনটেইন করুন যা সহজেই খুঁজে পাবেন।

২.বিছানার চাদর, বালিশ, কাঁথা বা পাতলা কম্বল
শারীরিক সুস্থতার পূর্বশর্ত হল মানসিক সুস্থতা। অনেকেরই ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা যায় যে নিজের বিছানা, বালিশ, চাদর, কম্বল ছাড়া নিদ্রা দেবীর দেখা মেলাই ভার হয়ে দাঁড়ায়। আর হাসপাতালের বিছানার কথা ভাবলেই গা গুলিয়ে উঠে। কিন্তু নিরুপায় ও জটিল অবস্থার শরণাপন্ন ? নার্সিং হোম এ তো যেতেই হবে। কোন ভাবাভাবি ছাড়া চটজলদি নিজের প্রয়োজনীয় দু’খানা বিছানার চাদর,পাতলা কাঁথা ,যদি সময়টা হয়ে থাকে শীতকাল তবে পাতলা কম্বল আর সুযোগ থাকলে নিজের অতি প্রিয় নিত্যসঙ্গী বালিশ খানাও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। আর যাই হোক, মাতৃত্বের মত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের মনকে কিছুটা মুহূর্তের জন্য হলেও রিলাক্স রাখার চেষ্টা বইকি।

৩. শিশুর জন্য কাপড়
আমরা অনেকেই আসন্ন ডেলিভারির চিন্তায় এতই টেনশনে থাকি যে নবজাতকের সুরক্ষার কথা একেবারেই ভুলে যাওয়ার যোগাড় হয়। নবজাতকের আগমন পরবর্তী মুহূর্ত গুলো যাতে সুরক্ষিত ও নিরাপদ হয় সে কথা মাথায় রেখে কিছু হাল্কা সুতি কাপড়ের কাঁথা, ন্যাপকিন, আরামদায়ক ডায়াপার, নরম বেবি তোয়ালে ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছেই রাখুন ।

৪. জামাকাপড়
বেশ কয়েকদিনের হিসাব করে পরিস্কার জামাকাপড় নিয়ে নিন। গর্ভবতী মায়েদের জন্য সুতির হালকা আরামদায়ক জামাকাপড় সঙ্গে রাখা উচিত। যদি শীতকাল হয়ে থাকে তাহলে গরম জামাকাপড় ব্যাগে রাখতে ভুলবেন না।

৫. নরম তোয়ালে
আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মধ্যে তোয়ালে অবশ্যই নিতে ভুলবেন না। এসময় নরম তোয়ালে ব্যবহার করাই উত্তম। তাছাড়া, প্রসবের পর আপনার সন্তানকে পরিস্কার নরম তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে রাখার জন্য কমপক্ষে দুটি তোয়ালে ব্যাগে রাখবেন।

৬. স্লিপার ও মোজা
নরমাল হাঁটাচলার জন্য এবং ওয়াশ রুম এ ব্যবহারের জন্য আলাদাভাবে দু’ জোড়া স্যান্ডেল অবশ্যই সাথে রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন স্যান্ডেল গুলো যাতে স্লিপারি না হয়। হাঁটাচলায় সাবধান থাকুন। আর সময়টা যদি হয় শীতকাল তবে সাথে মোজা রাখতে অবশ্যই ভুল করবেন না।

প্রসব ব্যথা বাড়তে থাকবে

সন্তান প্রসব -shusthodeho.net

৭. মোবাইল ফোন, চার্জার, এবং রিচার্জ কার্ড
ব্যাগ গোছানোর শুরুতেই আপনার মোবাইল ফোনটি সাথে নিন। চার্জারটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা দেখে নিন এবং ব্যাগে যথাস্থানে রাখুন যাতে খুব সহজেই খুঁজে পান। কারন, প্রয়োজনের সময় এই মোবাইল ফোনটিই হয়ে উঠবে আপনার পরম বন্ধু। মোবাইলের বেশী করে টাকা রিচার্জ করে নিন। দরকার হলে কয়েকটি রিচার্জ কার্ড ব্যাগে রাখুন।

৮. টয়লেট্রিজ
বিভিন্ন ধরনের টয়লেট্রিজ সামগ্রী যেমন: টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, হেয়ারড্রায়ার, ডিওডরেন্ট, শ্যাম্পু, সাবান, হ্যান্ড ওয়াশ, বডি ওয়াশ, টয়লেট টিস্যু, ফেসওয়াশ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস একটি ছোট ব্যাগে গুছিয়ে আপনার মূল ব্যাগে রাখুন। এসব সামগ্রী সঙ্গে থাকলে হাসপাতালের পরিবেশে আপনি কমফোর্ট ফিল করবেন।

এছাড়া হাল্কা প্রসাধনী যেমন চিরুনি, আয়না, হেয়ার ব্যান্ড, ময়শ্চারাইজার লোশান্‌ ইত্যাদি একটি ছোট পার্সে এ গুছিয়ে নিতে পারেন। নিজেকে একটু টিপটপ দেখাতে কে না ভালবাসে, বলুন তো?

৯. ইলেকট্রিক কেটলী ও পানির বোতল
আপনার প্রসবের সময়টা যদি শীতকাল হয়, তাহলে আপনার যখন তখন গরম পানির প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য পানি গরমের জন্য ইলেকট্রিক কেটলী থাকলে তা খুবই উপকারে দেবে। এছাড়া পানি খাওয়ার জন্য পানির জগ বা বিশুদ্ধ কয়েকটি খাবার পানির বোতল অবশ্যই সঙ্গে রাখুন।

১০. কাগজ ও কলম 
কথায় আছে , প্রয়োজনের সময় খড়- কুটোটিও পাওয়া যায় না। কোন প্রয়োজনীয় কিছু লিখতে হতেও পারে অথবা যাদের লেখালেখির অভ্যাস আছে তাঁরা তাঁদের এইরকম একটা বিশেষ মুহূর্তে মনের অনেক না বলা অনুভূতির কথা ডায়েরি বা নোটবুক এ লিখে রাখার তাগিদে কাগজ,কলম, ডায়েরি বা নোটবুক নিতে ভুলে যাবেন না যেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *