হার্ট অ্যাটাক ঠেকাবে ইলেকট্রনিক আবরণ, বেচে যাতে পরে হাজারো জীবন।

হার্ট অ্যাটাক ঠেকাবে ইলেকট্রনিক আবরণ যার প্রভাবে বেচে যাতে পরে হাজারো জীবন। জার্মান হার্ট ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্ব জুড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ মারা যান হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে । বায়ুদূষণ, দিন দিন এই সংখ্যা বেড়েই চলছে খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে নানা কারণে যা আমাদের এরিয়ে চলা খুব জরুরি।

হৃদরোগের এই ঝুঁকি প্রাকৃতিক উপায়ে তো বটেই, একইসঙ্গে যান্ত্রিক উপায়েও কীভাবে কমানো যায়, এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন যাবত গবেষণা চালিয়ে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে এবার মার্কিন বিজ্ঞানীরা হৃদযন্ত্রের জন্য তৈরি করেছেন এমন এক ইলেকট্রনিক আবরণ, যা নাকি মানুষকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে খুব সহযে।

হার্ট অ্যাটাক



বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতি নমনীয় ইলাস্টিক দিয়ে তৈরি এই আবরণটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অসংখ্য সুক্ষ্ণ ইলেকট্রিকের তার ও চিপ, যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে হৃদযন্ত্রের কাজ। এ ছাড়া হৃদযন্ত্রের স্পন্দন যেন সব সময় স্বাভাবিক ও অব্যাহত থাকে, তার প্রতিও দৃষ্টি রাখবে এটি। হঠাৎ আঘাত বা কোনো কারণে হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বাধাগ্রস্ত হলে এই চিপ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রয়োজনীয় মাত্রায় বৈদ্যুতিক শক দিয়ে তাকে স্বাভাবিক করে তুলবে।

২০১৪ সালে প্রথম এই আবিষ্কারটির কথা যৌথভাবে জানান দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়স ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তবে তখনও এই ইলাস্টিক আবরণ তারা কোনো প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করতে পারেননি।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এটি খরগোশের হৃৎপিণ্ডে বসিয়ে চমৎকার সাফল্য পেয়েছেন। এ সাফল্যের পর তারা বলছেন, আশা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে এই চিপ মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।, যা হবে পেসমেকারের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকা প্রযুক্তি। আর এটি বাস্তব হলে বাঁচানো সম্ভব হবে হৃদরোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকে

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করণীয়

হার্ট অ্যাটাক

হার্ট অ্যাটাক এক নীরব ঘাতক। যে কেউ যেকোনো সময় এর শিকার হতে পারেন। শরীরচর্চা না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ ও জীবনযাপনে অনিয়ম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। এর লক্ষণগুলো জানা থাকলে একটি জীবন হয়তো বাঁচিয়ে দেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণের কথা তুলে ধরেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ভারতের গুরগাঁওয়ের কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অনিল বনশাল হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছেন।

হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কয়েকটি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বুক ভার হয়ে আসা, পেটের ওপরের অংশে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করা, বাঁ হাত ব্যথা, চোয়াল ও ঘাড় ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। এই লক্ষণগুলো টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে যাওয়া এবং ইসিজি করা প্রয়োজন। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের এসব লক্ষণ দেখা যাওয়ার পরও বিষয়টিকে এড়িয়ে যান অনেকে। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াটা খুব জরুরি।

হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও ঘাম হওয়া। বুকে প্রচণ্ড চাপও অনুভব করতে পারেন আপনি। মনে হতে পারে, বুক যেন ভেঙে আসছে।

হার্ট অ্যাটাক হলে পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় বুকব্যথার লক্ষণ দেখা দেয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, চোয়াল ও মেরুদণ্ডে ব্যথা হয়।

হার্ট অ্যাটাক ঝুকি কমাতে :

১) প্রতিদিন অন্তত ১ ঘন্টা হাঁটা চলা করুন।

২)  ৫-১০ গ্রাম অর্জুন গাছের ছাল রাতে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে প্রতিদিন সকালে জল টুকু পান করুন।

৩) Red meat, ডিমের হলুদ অংশ ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন। বেশি করে জল, ফলমূল, সবজি খান।

হার্ট এটাকের ঝুকি কমে যাবে।

হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী করণীয়

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

পুরুষদের ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো বিপদের নারীদের ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণগুলো সাধারণত এড়িয়ে যাওয়া হয়। যা ঠিক না।

নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো যেমন- বদহজম, হাঁপিয়ে ওঠা, বুক ধড়ফড় করা, থুতনি, ঘাড়, হাতে ব্যথা ইত্যাদি বেশিরভাগ সময়ই অবহেলিত থেকে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে সমবয়সি পুরুষদের তুলনায় নারীদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি।

‘অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন’ যা ‘হার্ট অ্যাটাক’ নামে পরিচিত। এর ফলে হওয়া তীব্র ব্যথা নিয়ে নারীদের চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হওয়ার পরিমাণ খুবই কম। তবে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ নিয়ে শরণাপন্ন হওয়ার পরিমাণ বেশি এবং হাসপাতালে এই রোগের কারণে মারা যাওয়ার পরিমাণও বেশি।

ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথ (ওয়াইএসপিএইচ)’য়ের গেইল ডি’ওনোফ্রিও বলেন, “হৃদযন্ত্রের রোগের একাধিক ঝুঁকিবহনকারী একজন নারী যখন বুকে অস্বস্তি নিয়ে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় তখন ধরে নেওয়া উচিত তাদের ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বা ধমনী সংকুচিত হয়ে হৃদপিণ্ডে রক্তসরবরাহ কমে যাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকদের উচিত তাদের সঠিকভাবে পরীক্ষা করা।”

‘সার্কুলেশন’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণায় ২ হাজার ৯ জন নারী ও ৯৭৬ জন পুরুষ হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মধ্যে লিঙ্গ, উপসর্গ, উপসর্গের ধারণা এবং চিকিৎসা নেওয়ার আগ্রহগত সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। এদের সবারই বয়স ছিল ৫৫ বছর কিংবা তার কম।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিংহভাগ নারী-পুরুষেরই হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ ছিল বুকে ব্যথা ও চাপ অনুভব করা।

তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ হিসেবে বদহজম, হাঁপ ধরা, বুক ধড়ফড় এবং চোয়াল, ঘাড় ও হাতে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

গবেষকরা বলেন, “গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া নারীদের এই ধরনের লক্ষণগুলোকে তাদের চিকিৎসকরা হৃদপিণ্ডের সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার পরিবর্তে মানসিক চাপ ও অস্বস্তির ফলে হয় বলে মনে করার সম্ভাবনা বেশি দেখা গেছে।”

ওয়াইএসপিএইচ’য়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং ‘ক্রনিক ডিজিজ এপিডেমিওলজি’ বিভাগের প্রধান জুডিথ এইচ বলেন, “তরুণ নারী ও পুরুষদের মধ্যে বুকে ব্যথাই প্রধান লক্ষণ হলেও, এই লক্ষণের সঙ্গে অন্যান্য লক্ষণগুলো থাকলে তাকে দ্রুত হৃদপিণ্ড সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত, বিশেষত তরুণ রোগীর ক্ষেত্রে।”

                                                                                                             হার্ট অ্যাটাক – shusthodeho.net

পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের আগে ৬টি সংকেত

পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে যে অতি সাধারণ লক্ষণগুলি দেখা যায়, সেগুলি এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হয়। যেমন –

১) ক্লান্তি – যদি খুব ক্লান্তি বোধ হয় সেটা কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের একটা উপসর্গ। ভালো ঘুমের পরেও রোজের সাধারণ কাজ করতে গিয়েই ক্লান্ত হতে পড়লে আগাম সচেতন হন। কারণ হৃদয়ের পেশি আর কপাটিকাগুলি ঠিক মতো রক্ত পাম্প আর সরবরাহ করতে পাড়ছে না। ফলে গোটা শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাই অক্সিজেনও ছড়াতে পাড়ছে না। তাই ক্লান্তি বোধ হয়। এটাই বেড়ে গেলে হার্ট ব্লক ও অ্যাটাকের ঘটনা ঘটে।

২) পায়ে শিরায় টান – পায়ে বা পেছনের দিকে শিরায় টান ধরে? হাঁটতে সমস্যা হয়? বা চিন চিন করে? এই ধরনের টান ধরার কারণ হল ওই অংশের শিরা উপশিরায় রক্তের চলাচল ঠিক হচ্ছে না। তার কারণ হৃদয়েও রক্তের চলাচলে বাধা পাচ্ছে। তাই শরীরের সর্বত্র রক্ত ঠিক মতো পৌঁছচ্ছে না। এরও ফলাফল হার্ট অ্যাটাক।

৩) হজমের সমস্যা – প্রায় দিনই হজমের সমস্যা হয়? তা হলেও সচেতন হন। কারণ গ‍্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনের শিরা উপশিরাগুলির সঙ্গে হৃদয়ের শিরা উপশিরার সংযোগ রয়েছে। তাই হৃদয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব পরে পাকস্থলিতেও। ফলে পাকস্থলির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে এই উপসর্গেও চিকিত্‍সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪) বুকের ব্যথা – খুব সাধারণ আর পরিচিত সমস্যা বুকের ব্যথা। একটু মানসিক চাপের সময়ে যদি বুকে ব্যথা শুরু হয়, সেই ব্যথা হাত, ঘাড়, মাথা ইত্যাদির দিকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে, তা হলে জানবেন হৃদয়ে রোগ বাসা বাঁধছে। সাবধান হন। হৃদয়ের কাজ করার গতি কমছে। এটাই হার্ট অ্যাটাকের চেহারা নিতে পারে। তাই হৃদয়কে সচল করতে হবে। হৃদ সঞ্চালনের গতি বাড়াতে হবে।

৫) নাক ডাকা – নাক ডাকার সমস্যাটা মজার ব্যাপার মনে হলেও এটা কিন্তু মোটেই মজার নয়। এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে হৃদরোগের সংকেত। এতে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তা হৃদয়ের ওপর চাপ ফেলে। তা হার্ট অ্যাটাকের পথে ঠেলে দেয়।

৬) পুংজনন দ্বারের সমস্যা – এই অংশের কোষগুলিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেই নানান রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়। আর রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হওয়ার এক মাত্র কারণ হল হার্টের কোষগুলিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া। এর ফলে শরীরের অন্যত্র রক্ত ঠিক মতো পৌঁছতে পারে না। ফলে সেখানেও সমস্যা শুরু হয়। ফলে বলাই বাহুল্য হৃদয়ের কোষ সুস্থ না থাকলে তা বিপদ ডেকে আনবেই।

 

 

No Responses

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *