ডায়াবেটিস জটিলতার জন্য ৯ টি উপায়

ডায়াবেটিস বর্তমান সময়ে কম বেশি সবারই আছে। এই রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। আপনার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে হৃদয়, স্নায়ু, এবং পাদদেশের সমস্যা প্রতিরোধে আপনাকে সাহায্য করবে এই ৯টি উপায়।


১. অতিরিক্ত ওজন হ্রাস-একটি স্বাস্থ্যকর ওজন রক্ত ​​শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। অতিরিক্ত ওজন আপনার শরীররে অনেক রোগ এর সৃষ্টি করতে পারে। তাই যারা ডায়াবেটিস রোগী, তাদের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা উচিৎ।

২. আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা দিনে অন্তত দুবার পরীক্ষা করুন। প্রত্যেক ডাক্তার এই উপদেশ দিয়ে থাকেন। এছাড়াও, এটি লিখে রাখুন, যাতে আপনি আপনার অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারেন এবং লক্ষ্য করুন কিভাবে খাদ্য এবং ক্রিয়াকলাপ আপনার স্তরে প্রভাবিত করে।



৩. গত ২-৩ মাস ধরে আপনার গড় রক্তের শর্করার জন্য A1c রক্ত ​​পরীক্ষা করুন। টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ এর A1c এর পরিমান ৭% বা তার কম রাখা উচিৎআপনার A1c পরীক্ষা কত বার প্রয়োজন তা জানতে আপনারা ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।

৪. আপনার কার্বোহাইড্রেট ট্র্যাক করুন- ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীকে সর্বদা কার্বোহাইড্রেট এর পরিমান জানা উচিৎ এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার নির্বাচন করুন, যেমন সবুজ সবজি, ফল, মটরশুটি, এবং শস্য।

৫. আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুনএছাড়াও কোলেস্টেরল, এবং ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা কমিয়ে রাখুনডায়াবেটিস হৃদরোগের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, তাই আপনার রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের উপর নজর রাখুন। আপনার কলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডস এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। নির্ধারিত সময়ে ঔষধ নিন।

৬. চলন্ত রাখুন- নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে সুস্থ ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করে। ব্যায়াম সপ্তাহে ৫ দিন করা উচিৎ। কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুনহাঁটা, নাচ, এয়ারবিক, সাঁতার, টেনিস বা বাইসাইকেল এগুলো চেষ্টা করতে পারেননিজেকে সক্রিয় করতে শুরু করুন। প্রতিবার খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।



৭. ঘুম-বঞ্চিত- যখন আপনি ঘুম-বঞ্চিত হন, তখন আপনর খাওয়ার ঝোঁক বেরে যায় এবং এর মাধ্যমে আপনর ওজন বেরে যেতে শুরু করে, যা স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের যথেষ্ট ঘুমনো উচিৎ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস এবং উন্নত রক্ত ​​শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা উচিৎ।

৮. স্ট্রেস পরিচালনা- স্ট্রেস থেকে ডায়াবেটিস রোগীকে দূরে থাকা দরকারঅতিরিক্ত চাপ রক্ত ​​শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। আপনি ১৫ মিনিটের জন্য চুপ করে বসে, ধ্যান করার মাধ্যমে অথবা যোগ করার মাধ্যমে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন।

৯. আপনার ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ: ছয় মাস পর পর বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ চেকআপ করন, যদিও আপনি প্রায়ই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। চেকআপ এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন আপনার শরীরে কিডনি ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্র, এবং হৃদরোগ এমন জটিলতাআছে কিনা। অন্যান্য জটিলতার জন্য স্ক্রীনিং নিশ্চিত করুন। কোন সমস্যা অনুভুত করলে অবশ্যই ডাক্তার এর সরণাপন্ন হবেন।

কি করলে আমারা আমাদের পোস্ট আরও ভাল করতে পারি এই বিষয়ে অবশ্যই মতামত প্রকাশ করবেন। আরও কি টাইপের পোস্ট বা ক্যটাগরি আমরা যুক্ত করতে পারি এই বিষয়ে যদি মতামত থাকে তাও ব্যাক্ত করার অনুরোধ রইল।

ধন্যবাদ।

No Responses

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *